টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : বিশ্বখ্যাত স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স তাদের ব্যবসার পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধি নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে ঐতিহ্যবাহী মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা, ইউটিউব এবং মোবাইল স্ক্রিনের জনপ্রিয়তার মাঝে দর্শকদের কীভাবে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা যায়—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগে রয়েছে কোম্পানিটি।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার জন্য নেটফ্লিক্স এখন প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। বিজ্ঞাপন-নির্ভর সাশ্রয়ী সাবস্ক্রিপশন চালু করার মাধ্যমে বড় আয়ের যে আশা দেখানো হয়েছিল, তা এখনো আশানুরূপ রাজস্ব অর্জন করতে পারেনি। এই শ্লথ প্রবৃদ্ধির আশঙ্কায় চলতি বছর ইতিমধ্যেই কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) কমে গেছে।
ধীরগতির প্রবৃদ্ধি ও বিজ্ঞাপন খাতের চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেটফ্লিক্সের রাজস্ব ১৩.৬ শতাংশ বেড়ে ১২.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি বিগত চার প্রান্তিকের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে। পাসওয়ার্ড শেয়ারিং বন্ধ করা এবং সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়ানোর মাধ্যমে গত দুই বছরে নেটফ্লিক্স যে বড় লাফ দিয়েছিল, তার প্রভাব এখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, বিজ্ঞাপন-নির্ভর সাবস্ক্রিপশন থেকে এবার ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রাজস্ব আসবে। তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই-মার্কেটার (Emarketer)-এর বিশ্লেষক রস বেনেজ জানান, “আমাদের বিজ্ঞাপনের পূর্বাভাস কমিয়ে আনতে হয়েছে, কারণ এই খাত থেকে আয় সাধারণ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ধীর গতিতে বাড়ছে।”
লাইভ স্পোর্টস ও নতুন অধিগ্রহণের চেষ্টা
বিজ্ঞাপনদাতাদের আকর্ষণ করতে এবং দর্শকদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে নেটফ্লিক্স এখন লাইভ ইভেন্ট বা সরাসরি সম্প্রচারের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি জানা গেছে, কোম্পানিটি ২০৩০ এবং ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) যুক্তরাষ্ট্রের স্বত্ব কেনার জন্য লড়াইয়ে নামার কথা ভাবছে। এছাড়া জনপ্রিয় অনলাইন চলচ্চিত্র ভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম ‘লেটারবক্সড’ (Letterboxd) অধিগ্রহণ করার জন্যও তারা আলোচনা চালাচ্ছে।
টেলিকম ও মিডিয়া বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোরে বলেন, “নেটফ্লিক্স বাজার দখল করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ঠিকই, কিন্তু এখনকার আসল চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশাল গ্রাহক ভিত্তিকে টিকিয়ে রেখে ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।”
পরবর্তী সিজনে দর্শক হারানোর ভয়
ব্লুমবার্গের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নেটফ্লিক্সের দর্শকেরা কোনো সিরিজের প্রথম সিজন দেখার পর পরবর্তী সিজনগুলোতে আগের মতো ফিরছেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাদের সুপারহিট সিরিজ ‘দ্য নাইট এজেন্ট’ (The Night Agent) এবং ‘বিফ’ (Beef)-এর মতো শোগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে দর্শক সংখ্যা প্রায় অর্ধেক বা তার চেয়েও বেশি কমে গেছে।
দর্শকদের এই অনীহা এবং নতুন কনটেন্টের অভাব কাটিয়ে উঠে নেটফ্লিক্স কীভাবে তাদের সাম্রাজ্য ধরে রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


