টেকসিঁড়ি রিপোর্ট: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি’ (এআই অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি) নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন ক্ষেত্র যুক্ত হচ্ছে, যা প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই বিভাগে আসনসংখ্যা ৪০টি।
আবেদনকারীদের জন্য মূল তথ্য
নতুন বিভাগটি কুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতা এখানে প্রযোজ্য হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিশ্ববিদ্যালয় | খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) |
| নতুন বিভাগ | আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি |
| শিক্ষাবর্ষ | ২০২৬-২৭ |
| আসনসংখ্যা | ৪০টি (প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী; চূড়ান্ত সংখ্যা অফিসিয়াল সার্কুলারে নিশ্চিত হবে) |
| ভর্তি পরীক্ষার আওতা | বি.এসসি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বি.আর্ক |
| পরীক্ষার তারিখ | ৮ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার) |
| পরীক্ষা পদ্ধতি | সম্পূর্ণ এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) |
| পরীক্ষা কেন্দ্র | খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী |
| এসএসসি | বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ |
| এইচএসসি | পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজিতে মোট জিপিএ ১৮.০০ |
| বিষয়ভিত্তিক ন্যূনতম | গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ |
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ভোগান্তি কমাতে এবার একযোগে তিনটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পূর্ববর্তী সেশনগুলোতে কুয়েটের মোট আসনসংখ্যা সাধারণত ১,০৬৫টির কাছাকাছি ছিল; ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বিভাগভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ আসন তালিকা চূড়ান্ত সার্কুলার প্রকাশের পর জানা যাবে।
কেন এআই ও সাইবার সিকিউরিটি গুরুত্বপূর্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল প্রযুক্তি, রোবোটিক্স ও অটোমেশন, স্বয়ংচালিত যানবাহন, ফিনটেক ও ব্যাংকিং, স্মার্ট সিটি, জলবায়ু গবেষণা, ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং এবং সরকারি ডিজিটাল সেবায় এর ব্যবহার বাড়ছে।
বিশ্ব যত ডিজিটাল হচ্ছে, সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনও তত বাড়ছে। সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরকারি তথ্যভান্ডার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষায় কাজ করেন।
সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রগুলো হলো:
- এথিক্যাল হ্যাকিং ও পেনিট্রেশন টেস্টিং
- নেটওয়ার্ক ও ক্লাউড সিকিউরিটি
- ডিজিটাল ফরেনসিক্স
- সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি)
- ডেটা প্রোটেকশন ও প্রাইভেসি
- সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স
- ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোটেকশন
ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা
প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করলে স্নাতকদের জন্য ৪টি ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি হতে পারে:
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান: গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, আইবিএম, এনভিডিয়া ও সিসকোর মতো প্রতিষ্ঠানে এআই ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার, সাইবার সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, সিকিউরিটি রিসার্চার ও ক্লাউড সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি খাত: জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আইটিইউ, ইন্টারপোল, বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে।
গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা: এআই, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিক্স, ডেটা সায়েন্স ও ইনফরমেশন সিকিউরিটি বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট কাজ: আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে এআই ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালাইসিস, সিকিউরিটি কনসালটিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে।
প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আরও তথ্য
শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই ভালো ক্যারিয়ার গড়া যাবে না। এ জন্য পাইথন প্রোগ্রামিং, গণিত, পরিসংখ্যান, মেশিন লার্নিং, লিনাক্স, নেটওয়ার্কিং, ডেটাবেজ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এআই ও সাইবার সিকিউরিটির সমন্বিত জ্ঞান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থায় চাকরির জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়।
ভর্তি আবেদনের সময়সীমা, ফি প্রদানের নিয়ম এবং নতুন বিভাগের নিশ্চিত আসনসংখ্যা কুয়েটের অফিসিয়াল সার্কুলারে জানানো হবে। আবেদনকারীদের অফিসিয়াল কুয়েট অ্যাডমিশন পোর্টালে নিয়মিত নজর রাখার অনুরোধ করা হলো।
সুত্রঃ কুয়েট সাংবাদিক সমিতি



