টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : অ্যাপলের আসন্ন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো (iPhone 18 Pro) এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স (iPhone 18 Pro Max) বাজারে আসতে আরও কিছু মাস বাকি থাকলেও, এর ভেতরের শক্তিশালী প্রসেসর নিয়ে বড় এক তথ্য ফাঁস হয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ম্যাকরিউমার্স’ (MacRumors)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবো (Weibo)-তে আইফোন ১৮ প্রো-এর মাদারবোর্ডের একটি লিকড ছবি প্রকাশ পেয়েছে।
এই ছবি থেকে জানা গেছে, অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের ‘A20 Pro’ চিপে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ফোনকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচাবে এবং এর পারফরম্যান্স বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
পুরোনো প্রযুক্তি বাদ, আসছে নতুন WMCM আর্কিটেকচার
এতদিন পর্যন্ত আইফোনের চিপগুলোতে অ্যাপল ‘প্যাকেজ-অন-প্যাকেজ’ (PoP) বা উপাদান একটার ওপর আরেকটা স্তরে স্তরে সাজানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করত। এতে প্রসেসরের ঠিক ওপরেই র্যাম (DRAM) বসানো থাকত।
এই পদ্ধতিতে ফোনের গতি ভালো পাওয়া গেলেও, মস্ত বড় সমস্যা ছিল ‘থার্মাল থ্রোটলিং’ বা ফোন দ্রুত গরম হয়ে যাওয়া। যেহেতু প্রসেসর ও র্যাম এক জায়গায় স্তূপ করা থাকত, তাই ভারী কাজ বা গেম খেলার সময় চিপের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যেত।
ফাঁস হওয়া ছবি অনুযায়ী, নতুন A20 Pro চিপে অ্যাপল ব্যবহার করছে টিএসএমসি (TSMC)-এর তৈরি অত্যাধুনিক WMCM (Wafer-Level Multi-Chip Module) প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে র্যাম প্রসেসরের ওপর না রেখে, এর ঠিক পাশে বসানো হয়েছে। ফলে চিপের ভেতরের তাপ সমানভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারবে। এতে দীর্ঘক্ষণ ভারী কাজ বা হাই-গ্রাফিক্স গেম খেললেও আইফোন আগের চেয়ে অনেক ঠাণ্ডা থাকবে এবং পারফরম্যান্স ড্রপ করবে না।
বড় হচ্ছে এআই বা নিউরাল ইঞ্জিন (NPU)
ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নতুন চিপটির সামগ্রিক আকার আগের (A19 Pro) চিপের মতোই থাকছে, যা উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। তবে চিপের ভেতরে থাকা নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (NPU) বা অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স (AI) পরিচালনার অংশটি আকারে বেশ বড় করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, আইফোন ১৮ প্রো-তে অন-ডিভাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘Siri AI’ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারবে।
২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তির জাদু এবং দুর্দান্ত গতি
A20 Pro চিপটি তৈরি করা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ২-ন্যানোমিটার (2nm) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রযুক্তির কারণে নতুন আইফোন পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুতগতির এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ব্যাসাশ্রয়ী (Energy Efficient) হবে।
এছাড়াও এতে উন্নত LPDDR6 র্যাম এবং ৯৬-বিট মেমোরি বাস ব্যবহার করা হতে পারে, যা ডেটা আদান-প্রদানের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে।
অন্যান্য সম্ভাব্য ফিচার ও উন্মোচন
বাজারের গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেলে ১২ জিবি র্যাম, ৪৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা এবং অ্যাপলের নিজস্ব তৈরি শক্তিশালী ‘C2’ ৫জি মোডেম দেখা যেতে পারে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই অ্যাপলের জমকালো ইভেন্টে নতুন এই আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই লিকড তথ্য সত্যি হয়, তবে পারফরম্যান্স ও কুলিংয়ের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো বাজারে অন্য সব স্মার্টফোনকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দেবে।


