টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এখন থেকে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা অ্যামাজন (Amazon), আলিবাবা (Alibaba) এবং আলিএক্সপ্রেসের (Ali Express) মতো বিশ্ববিখ্যাত আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরাসরি নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করার সুযোগ পাবেন।
সোমবার , ১৫ জুন, ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
মূলত ক্রস-বর্ডার ‘বিজনেস-টু-কনজিউমার’ (B2C) বা সরাসরি বিদেশি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সম্প্রসারণ ঘটাতেই এই বড় নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় কী কী সুবিধা ও নিয়ম থাকছে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া নিরাপদ ও সহজ করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে :
- ব্যাংক কর্তৃক চুক্তি যাচাই: অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকের সাথে ওই আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসের একটি বৈধ মার্চেন্ট চুক্তি রয়েছে। এছাড়া মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি (Payment Settlement) এবং যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির (Dispute Mechanism) সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা চুক্তিতে থাকতে হবে।
- লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা: এই সুবিধাটি আপাতত ‘কস্ট অ্যান্ড ফ্রেট’ (CFR) শর্তে স্বল্পমূল্যের চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে একক লেনদেনে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,০০০ মার্কিন ডলার।
- ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ ছাড়: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) সুবিধার্থে ১,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের চালানের ক্ষেত্রে কোনো ‘ইএক্সপি ফর্ম’ (EXP Form) দাখিল করতে হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, এই চালানের মূল্য অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে অগ্রিম (Advance Payment) গ্রহণ করতে হবে।
- রপ্তানি আয় দেশে আনা (Repatriation): নিয়ম অনুযায়ী, পণ্য বিক্রির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেস বা ক্রেতার কাছ থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে।
অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়বে?
খাত সংশ্লিষ্ট ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে দেশের তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের ডিজিটাল রপ্তানি আয় (Digital Export Revenue) বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।
উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে সরাসরি কাজ করার জন্য এমন একটি সহজ নীতিমালার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা এই সার্কুলারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলো।


