টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : আপনি জানেন কি ,বর্তমানে চীনের মোট ইভি সংখ্যা বিশ্বের বাকি সব দেশের সম্মিলিত ইভি সংখ্যার প্রায় সমান। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন যেভাবে দ্রুত গতিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি গ্রহণ করেছে, তা হরমুজ প্রণালীর তেল সংকটের মুখেও দেশটির অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় বা কুশন তৈরি করে দিয়েছে।
যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যখন বড় ধাক্কা লেগেছে, তখন এই তেলের দাম বৃদ্ধির আঘাত থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে বাঁচাতে চীনের সামনে একটি বড় ঢাল বা বাফার হিসেবে দাঁড়িয়েছে দেশটির বিশাল ‘ইলেকট্রিক ট্যাক্সি’ এবং রাইডশেয়ারিং নেটওয়ার্ক।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও চীনের শহরগুলোতে ট্যাক্সি এবং রাইডশেয়ারিংয়ের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে চীনের নাগরিকেরা মোট ৩০৫ কোটি (৩.০৫ বিলিয়ন) বার ট্যাক্সি বা রাইডশেয়ারিংয়ের মাধ্যমে যাতায়াত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মে মাস পর্যন্ত হিসাব করলে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ট্রিপ বা যাতায়াতের সংখ্যা প্রায় ৬% বেড়েছে।
তেলের দাম বাড়লেও কমছে ট্যাক্সি ভাড়া
সাধারণত তেলের দাম বাড়লে যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও চীনের পরিবহন খাতে একটি উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশটির ধীরগতির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে প্রচুর মানুষ বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে রাইডশেয়ারিং বা ট্যাক্সি ড্রাইভিং পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। বাজারে চালকের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) সহজলভ্য হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা ট্যাক্সি ভাড়াকে বেশ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত পেট্রোল চালিত গাড়ি চালানো কমিয়ে দিয়ে সস্তায় ইলেকট্রিক ট্যাক্সি বা রাইডশেয়ারিং সেবা ব্যবহার করছেন।
বেজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী রাইডশেয়ারিং চালক লি রয়টার্সকে জানান, গত ৬ মাসে চালকদের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এই খাতে ভাড়া প্রায় ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমে গেছে।
চীনের বিশাল ইভি (EV) বিপ্লব
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় (Ministry of Transport) জানিয়েছে, দেশের মোট ১৩ লাখ ট্যাক্সির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই এখন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রিক। এমনকি দেশটির বড় বড় মেগাসিটিগুলোতে এই হার প্রায় ১০০% এর কাছাকাছি।
চীনের শীর্ষস্থানীয় রাইডশেয়ারিং জায়ান্ট ‘দিদি’ (Didi) জানিয়েছে, তারা গত বছর তাদের প্ল্যাটফর্মে আরও ২০ লাখ হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি যুক্ত করেছে। এর ফলে তাদের জীবাশ্ম জ্বালানিবিহীন (non-fossil fuel) গাড়ির বহর এখন প্রায় ৮০ লাখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্কের মোট দূরত্বের (Mileage) ৭৫% শতাংশই সম্পন্ন হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির মাধ্যমে।
কমছে তেলের চাহিদা
এই বিশাল ইভি বিপ্লবের কারণে চীনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে চীনে মে দিবস বা লেবার ডে-র ছুটির কারণে ঘরোয়া ভ্রমণ রেকর্ড ছুঁয়েছিল এবং সড়কপথে পণ্য পরিবহন ২% বৃদ্ধি পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও গত বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছর দেশটির পেট্রোল ব্যবহার ১০% এবং ডিজেল ব্যবহার প্রায় ১৪% কমে গেছে।
ইনস্টিটিউট ফর ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ITDP)-এর পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক দাইজং লিউ বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মানুষ এখন তাদের ব্যক্তিগত পেট্রোল চালিত গাড়িগুলো রাস্তায় কম নামাচ্ছেন।”


