আরিফুল হাসান : নাসার তৈরি “ওরিয়ন স্পেসক্রাফট” হলো একটি নতুন প্রজন্মের মানববাহী মহাকাশযান, যা মূলত চাঁদ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৪ জন মহাকাশচারী থাকতে পারেন এবং এটি প্রায় ২১ দিন পর্যন্ত গভীর মহাশূন্যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম। এর উচ্চতা প্রায় ৩.৩ মিটার এবং ব্যাস প্রায় ৫ মিটার, আর এর মোট ওজন প্রায় ২৬,০০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
এই মহাকাশযানে তিনটি প্রধান অংশ রয়েছে—ক্রু মডিউল, সার্ভিস মডিউল এবং লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম, যা জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সার্ভিস মডিউলের সৌর প্যানেল থেকে প্রায় ১১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং এতে ৩৩টি ইঞ্জিন রয়েছে, যার প্রধান ইঞ্জিনটি ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এর অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গভীর মহাশূন্যে নেভিগেশন করতে পারে এবং স্টার ট্র্যাকার ও সেন্সরের মাধ্যমে অবস্থান নির্ধারণ করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর বিশাল ৫ মিটার ব্যাসের হিট শিল্ড, যা ৪০,০০০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় তাপ সহ্য করতে পারে। এটি উন্নত লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ব্যবহার করে অক্সিজেন, তাপমাত্রা ও পানি নিয়ন্ত্রণ করে।
সর্বোপরি, এটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে চাঁদে আর্টেমিস মিশনসহ ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের জন্য মানবজাতির সবচেয়ে উন্নত নিরাপদ মহাকাশযান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।


