টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : স্যামসাংয়ের শ্রমিক ইউনিয়ন আগামী ২১ মে থেকে ১৮ দিনব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ম্যানেজমেন্টের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি ও বোনাসের সর্বোচ্চ সীমার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা ভেস্তে গেছে। এর ফলে ইউনিয়নের প্রায় ৪১,০০০ থেকে ৫০,০০০ কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসায় চিপের চাহিদা বাড়ায় এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীরা তাদের লভ্যাংশ ও বোনাসের ন্যায্য এবং স্বচ্ছ দাবি তুলেছেন।
শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনতে স্যামসাং কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পুনরায় সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতা চোই সেউং-হো (Choi Seung-ho) সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউনিয়নের সাফ কথা— ৭ জুনের (অর্থাৎ ঘোষিত ধর্মঘটের সময়সীমার) আগে তারা ম্যানেজমেন্টের সাথে নতুন কোনো আলোচনায় বসবে না, যদি না কোম্পানি তাদের বোনাস সংক্রান্ত দাবিগুলো লিখিত ও সুনির্দিষ্টভাবে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
অন্যদিকে, সরকার দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ধর্মঘট বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ চেইনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় মিডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণে স্যামসাংয়ের চিপ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ওন (দক্ষিণ কোরিয়ান মুদ্রা) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তাছাড়া, দীর্ঘমেয়াদের ফলে বিশ্ববাজারে গ্রাহক হারানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সরবরাহে মারাত্মক টানাপোড়েন তৈরি হবে। এ কারণে স্যামসাংয়ের শেয়ারের মূল্যেও প্রায় ৯.৩% পর্যন্ত ধস লক্ষ্য করা গেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা স্যামসাংয়ের এই ধর্মঘট এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প পথ অবলম্বন করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক (Kim Min-seok) এবং অর্থমন্ত্রী কু ইউন-চেওল (Koo Yun-cheol) অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি ও আর্থিক বাজারের স্বার্থে এই ধর্মঘট যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে দেশের শ্রম আইনের অধীন “জরুরি মধ্যস্থতা ক্ষমতা” ব্যবহার করতে পারে।
এই নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ধর্মঘট জাতীয় অর্থনীতি ও নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে, তবে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবলে সাময়িকভাবে ৩০ দিনের জন্য সেই শিল্প ধর্মঘট স্থগিত বা স্থগিতের আদেশ দিতে পারে।
উল্লেখ্য , গত এপ্রিল মাসের শেষদিক থেকেই শ্রমিকরা প্ল্যান্টের সামনে বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ (Rally) করে আসছেন।


