টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : স্পেসএক্স তাদের তৈরি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী মেগা রকেট ‘স্টারশিপ’-এর নতুন ও উন্নত সংস্করণ “ভার্সন ৩” (Starship V3) উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এই রকেটের পরীক্ষামূলক যাত্রার পথটি বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং কিছুটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হলে তা বাণিজ্যিক মহাকাশযান শিল্পের পুরো চিত্র বদলে দেবে।
যে ৩টি মূল কারণে স্টারশিপ ভি৩ মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এটি ‘গেম-চেইঞ্জার’ বা যুগান্তকারী আবিষ্কার হতে যাচ্ছে, তা হলো :
নজিরবিহীন পেলোড ক্ষমতা এবং শক্তিশালী ইঞ্জিন :স্টারশিপ ভি৩ সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের ‘র্যাপ্টর ৩’ (Raptor 3) ইঞ্জিন। রকেটের প্রথম স্তর বা ‘সুপার হেভি বুস্টার’-এ মোট ৩৩টি র্যাপ্টর ৩ ইঞ্জিন বসানো হয়েছে, যা উড্ডয়নের সময় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি করতে সক্ষম। এটি আগের সংস্করণের বুস্টারগুলোর তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি শক্তিশালী।
এই বিপুল শক্তির কারণে রকেটটির পেলোড বা ওজন বহনের ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চাঁদ ও মঙ্গলে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশাল অবকাঠামো পাঠাতে সাহায্য করবে।
দ্রুত এবং শতভাগ পুনঃব্যবহারযোগ্যতার নিখুঁত ডিজাইন : রকেট উৎক্ষেপণের খরচ কমিয়ে আনার জন্য স্পেসএক্সের মূল লক্ষ্য হলো রকেটের প্রতিটি অংশকে দ্রুত পুনঃব্যবহার উপযোগী (Rapid Reusability) করে তোলা। স্টারশিপ ভি৩-এর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে মিশন শেষে এর যন্ত্রাংশগুলো খুব কম সময়ে এবং কম ঝুঁকিতে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
সুপার হেভি বুস্টারে এবার ৪টির পরিবর্তে ৩টি পাখা বা গ্রিড ফিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা আকারে ৫০% বড় এবং অনেক বেশি শক্তিশালী। এগুলো বুস্টারটিকে নিখুঁতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসতে এবং টাওয়ারের ‘চপস্টিক’ বাহু দিয়ে ধরে ফেলতে সাহায্য করবে। এছাড়া এর ‘হট-স্টেজিং’ সিস্টেম এবং ইঞ্জিনের পেছনের অংশের তাপ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়েছে, যা রকেটের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমাবে এবং পরবর্তী মিশনের মাঝের সময়কে অনেক কমিয়ে আনবে।
কক্ষপথে জ্বালানি স্থানান্তর প্রযুক্তি : চাঁদ কিংবা মঙ্গলের মতো দূরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য স্টারশিপের মহাকাশেই রিফুয়েলিং বা পুনঃজ্বালানি ভরার প্রয়োজন হবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে কোনো দেশ বা সংস্থা এখন পর্যন্ত কক্ষপথে এই জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি।
স্টারশিপ ভি৩ মূলত এই পরীক্ষার উদ্দেশ্যেই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর ওপরের স্তরে (Upper Stage) এমন কিছু সিস্টেম ও কানেক্টর যুক্ত করা হয়েছে যাতে মহাকাশে দুটি স্টারশিপ একে অপরের সাথে যুক্ত (Docking) হয়ে অত্যন্ত নিরাপদে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানি স্থানান্তর করতে পারে।
নাসা-এর আর্টেমিস (Artemis) মিশনের অংশ হিসেবে নভোচারীদের চাঁদে নামানোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সুত্র গিজমোডো


