টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে— এই আশঙ্কা এতদিন কেবল তাত্ত্বিক বা অনুমানের পর্যায়ে থাকলেও, এবার মার্কিন সরকারের অফিশিয়াল ডেটায় তার বাস্তব প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (BLS)-এর বার্ষিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যে ক্ষেত্রগুলোতে এআই’র ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বা যেসব চাকরি সরাসরি এআই এর সংস্পর্শে রয়েছে, সেখানে কর্মসংস্থান কমতে শুরু করেছে। যদিও এই হ্রাসের হার এখন পর্যন্ত খুবই সামান্য, তবে কর্মসংস্থানের এই ধারা ভবিষ্যতের এক নেতিবাচক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত— এই এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ বা গ্রাহক সেবা প্রতিনিধির পদ কমেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৮০টি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে এই একটি নির্দিষ্ট খাতেই কর্মী সংখ্যা প্রায় ৪.৮% হ্রাস পেয়েছে। মূলত ডেস্ক-ভিত্তিক কাজ এবং মানুষ ও সিস্টেমের মধ্যকার যোগাযোগ বা ডেটা এন্ট্রির মতো কাজগুলো যেখানে সহজেই প্রযুক্তি দিয়ে করা সম্ভব, সেই ক্ষেত্রগুলোতেই প্রথম কোপটি পড়েছে।
ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (BLS) পূর্বে তাদের একটি রিপোর্টে ১৮টি নির্দিষ্ট পেশাকে “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট পেশা” হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থানের বাজার বা সাধারণ চাকরি ০.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক সেই একই সময়ে এই এআই -সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোতে কর্মসংস্থান ০.২% হ্রাস পেয়েছে।
আর কাস্টমার সার্ভিস বাদে এই তালিকার বাকি অন্য চাকরিগুলোর ক্ষেত্রে কর্মী কমার হার ছিল গড়ে ১.৬%। সামগ্রিক অর্থনীতি যেখানে বাড়ছে, সেখানে এই খাতগুলোর কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকে অর্থনীতিবিদরা এআই এর প্রভাব হিসেবেই দেখছেন।
বিএলএস-এর পূর্ববর্তী রিপোর্টগুলোতেও অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছিল যে, কিছু চাকরি এআই -এর কারণে বিলুপ্ত বা সংকুচিত হলেও, অন্য কিছু ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। অনেক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ মনে করেন, আগামী দিনের এআই-চালিত অর্থনীতিতে মানুষের কাজের মান উন্নত হবে এবং আরও সৃজনশীল ও ভালো চাকরি তৈরি হবে, যা এই সাময়িক ক্ষতিকে পুষিয়ে দেবে।
তবে বর্তমান ডেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রূপান্তরের এই প্রাথমিক ধাক্কাটি মার্কিন চাকরিজীবীদের বেশ ভালোভাবেই সামলাতে হচ্ছে।


