টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ডেটা সেন্টার স্থাপন করতে মাত্র ২-৩ বছর সময় লাগলেও, নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রায় এক দশক পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই সময়ের ব্যবধানই বর্তমানে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য প্রসারের কারণে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ চাহিদায় অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হচ্ছে। ব্লুমবার্গএনইএফ (BloombergNEF)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) গ্রাস করবে ডেটা সেন্টারগুলো—যা বর্তমান ব্যবহারের চেয়ে অন্তত ৪ গুণ বেশি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ খরচের প্রায় ৫.৯% ডেটা সেন্টারগুলোর দখলে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১২% এবং ২০৩৫ সালে গিয়ে ২০%-এ পৌঁছাবে।
এআই কম্পিউটিংয়ের চাহিদা: ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক দশকে ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা প্রায় ২০০ গিগাওয়াটে (১৯৪ GW) পৌঁছাবে। এর প্রায় অর্ধেক ক্ষমতাই খরচ হবে এআই মডেল ট্রেইনিং ও ইনফারেন্স (Inference)-এ।
ভারতে বার্ষিক ব্যবহারের সমপরিমাণ: ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে যে নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে উঠবে, সেগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা ভারতের বর্তমান বার্ষিক মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান হতে পারে।
বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো (যেমন PJM এবং ERCOT) ইতিমধ্যে তীব্র সংকটে পড়েছে। চাহিদার বাড়তি চাপে PJM অঞ্চলে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য প্রায় ৭৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাধারণ গ্রাহকের ওপর প্রভাব: ব্লুমবার্গএনইএফ-এর বিশ্লেষক লয়েড আর্নল্ড সতর্ক করেছেন যে, দেশের প্রতি ৫ ইউনিট বিদ্যুতের ১ ইউনিট যদি ডেটা সেন্টারে চলে যায়, তবে বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV), বাসা-বাড়ি ও সার্বিক নগর জীবনের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটপূর্ণ হয়ে পড়বে।


