টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : মেটার ২৬ জন কর্মী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি ব্যতিক্রমী মামলা দায়ের করেছেন। কর্মীদের দাবি, চলতি বছরের গণছাঁটাইয়ে কাদের চাকরি যাবে তা নির্ধারণ করতে মেটা বৈষম্যমূলক এআই টুল ব্যবহার করেছে। মেটা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
মেটা তাদের অভ্যন্তরীণ এআই সিস্টেম, কী-স্ট্রোক মনিটরিং এবং অ্যাক্টিভিটি ডেটা ব্যবহার করে কর্মীদের কাজের দক্ষতা ও প্রোডাক্টিভিটি র্যাংক করেছিল। ছুটি বা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা কর্মীদের ডেটা কম থাকায় এআই সিস্টেম তাদের “কম দক্ষ” হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে অসুস্থতা, মাতৃত্বকালীন বা পারিবারিক কারণে ছুটিতে থাকা কর্মীরা অসমভাবে ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়ে যান।
এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ছাঁটাই হলে তা আদালতে প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। এআই অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা সাধারণত গোপন (“ব্ল্যাক বক্স”) থাকে। এছাড়া কর্মীদের সাথে থাকা গোপনীয়তা ও আর্বিট্রেশন (Arbitration) চুক্তির কারণে এ ধরনের বিষয় আদালতের বাইরেই সমাধান হয়ে যায়, যা প্রকাশ্যে আসে না।
মেটা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কর্মী ছাঁটাই ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত মানুষের দ্বারাই নেওয়া হয়েছে, কোনো এআই এটি নির্ধারণ করেনি। তাদের দাবি, এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই।
কর্মক্ষেত্রে বা ছাঁটাইয়ের কাজে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে এটি প্রথম সারির কোনো বড় টেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম দিককার একটি বড় মামলা। মামলাটি এখন ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতের বিচারাধীন রয়েছে এবং কর্মীরা ছাঁটাই স্থগিত রেখে এআই ব্যবস্থার ওপর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



