টেকসিঁড়ি রিপোর্ট ঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতামূলক’ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, লক্ষ্য এআই প্রযুক্তির ওপর নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা।
২৯ সেপ্টেম্বর , মংগলবার হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ শেষে ট্রাম্প ‘জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজ’ নামের এই চুক্তির কথা জানান।
চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “এটি অনেকটা সংবিধানের মতো। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মানুষেরা এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমিও এতে স্বাক্ষর করেছি। এটি মূলত এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা।”
এর পাশাপাশি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই শব্দটির নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘে দেওয়া তার এক ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
উক্ত নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়, “এই নির্দেশনার মাধ্যমে সকল দপ্তর ও সংস্থাকে তাদের দাপ্তরিক চিঠিপত্র, গণযোগাযোগ, নীতিগত নথি এবং নির্বাহী শাখার আওতায় থাকা সব নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ এবং ‘এসআই’ (SI) শব্দ দুটি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দটি আর গ্রহণ করা হবে না।”
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই সমঝোতা চুক্তি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পণ্য ও প্রযুক্তিতে ‘ব্যাপক স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ (tremendous self-policing) অনুশীলনের সুযোগ দেবে। নতুন পণ্য পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিরাপত্তার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে, চুক্তিটিতে তার একটি সাধারণ ফ্রেমওয়ার্ক তুলে ধরা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় বড় কিছু এআই প্রতিষ্ঠানের অনাকাঙ্ক্ষিত হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জনসমালোচনা চলছিল।
আইনপ্রণেতা, এআই গবেষক এবং কিছু এআই প্রতিষ্ঠান নিজেরাও এই খাতের ওপর সরকারের পর্যবেক্ষণ ও তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে চীনের সাথে প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার অজুহাতে সরকারি কড়াকড়ির বিষয়টি শুরু থেকেই নাকচ করে আসছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যে যৌথ প্রতিশ্রুতির খসড়া পোস্ট করেছেন, সেখানে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক আইনি আইনি বাধ্যবাধকতা বা প্রয়োগ ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এটি মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি স্বেচ্ছাসেবী অঙ্গীকার।
এই দলিলে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘৪ স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা’ কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে:
প্রথম স্তর: মডেল প্রশিক্ষণের সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা—যা ইতিমধ্যে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান থাকলেও বিভিন্ন ব্যর্থতা ঠেকাতে তা এখনো খুব একটা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
দ্বিতীয় স্তর: প্রথম স্তরের তদারকি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিতে একটি অভ্যন্তরীণ টিমকে ক্ষমতা দেওয়া।
তৃতীয় স্তর: নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো স্বাধীনভাবে মূল্যায়নের জন্য একজন বহিরাগত অডিটরের কাছে পর্যালোচনা সুবিধা প্রদান করা।
চতুর্থ স্তর: নিরাপত্তা মনিটরিং প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একটি স্বাধীন বোর্ড নিয়োগ করা।
স্পিকার মাইক জনসন ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে জানান: “আমাদের এখনই এআই প্রযুক্তিতে কোনো স্থবিরতা বা অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ (hyper-regulation) আরোপ করার প্রয়োজন নেই; কারণ তেমনটা করলে আমরা চীনের কাছে পিছিয়ে পড়ব। তবে উদ্ভাবন বজায় রাখার পাশাপাশি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি এবং এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সেটিই হবে।”
এআই নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ার পেক্ষাপটে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ৭৩% মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি।
গার্ডিয়ান এং রয়টার্স থেকে



