টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর দ্রুত প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে যে পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি থারমান শানমুগারত্নম।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
প্রযুক্তির এই বিপ্লব মোকাবিলায় সিঙ্গাপুর অন্যান্য দেশের তুলনায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির কারণে যেন দেশের শ্রমবাজার ও কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সরকার, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য দেশটিতে এআই সিস্টেমের দায়িত্বশীল বাস্তবায়ন ও পরিচালনা মূল্যায়নের জন্য একটি জাতীয় পরীক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রণী বৈশ্বিক কেন্দ্র, যেখানে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ২৩.৫% ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এটি গ্রহণ করেছে এবং এর ডিজিটাল অর্থনীতি ১৪৪.১ বিলিয়ন ডলারে প্রসারিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি থারমান উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কাজের সুযোগ বা চাকরির চাহিদা কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ছে। নবীন ও সদ্য স্নাতক পাশ করা তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর যুগে কেবল প্রথাগত ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে তরুণ প্রজন্মকে নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কন্টিনিউয়াস লার্নিং বা ধারাবাহিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে।
সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এআই গ্রহণের হার বেড়ে ২৩.৫% হয়েছে (যা গত বছর ছিল ১৪.৭%), যার মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই)-এর ক্ষেত্রে এই হার ২৩.৪% এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ৭০.৪%।
সিঙ্গাপুরের প্রায় ৮৬% কর্মী কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করেন এবং তাঁদের মধ্যে ৭৩% সরাসরি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন।
রয়টার্স


