টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’-এর বিরুদ্ধে স্টারলিংক সেবায় নতুন করে সীমাবদ্ধতা আরোপের অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন। দেশটির দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে তাদের সামরিক ড্রোন মিশনগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, স্টারলিংকের গতি বা কার্যকারিতায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ করে এই সীমা আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিচালিত ড্রোনগুলো সংযোগ হারাচ্ছে এবং মিশন বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী।
রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির আহ্বানের প্রতি এই হামলাকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি “প্রকাশ্য অসম্মান” বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে মাস্ক বলেছেন, মার্কিন সরকার ও সেনাবাহিনী স্টারশিল্ডের গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দীর্ঘ দূরত্বের আক্রমণাত্মক ড্রোন পরিচালনা এবং সামনের সারির সেনাদের রসদ সরবরাহের কাজে স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সংকেত বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্টারলিংক অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করায় এটি ইউক্রেনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল।
ইউক্রেনের এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পোল্যান্ড, যারা মূলত কিয়েভের পক্ষ থেকে স্টারলিংকের সাবস্ক্রিপশন ফি পরিশোধ করে থাকে।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোসওয়াফ সিকোরস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ ইলন মাস্ককে উদ্দেশ করে লিখেছেন, “হেই ইলন মাস্ক, বড় সাহেব, আপনি কি আবার আপনার পণ্য নিয়ে রাজনীতি করছেন? আপনাদের ইউরোপীয় গ্রাহক হিসেবে আমরা আপনাদের ওপর নজর রাখছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনারই আরেকটি নতুন মাত্রা, যা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।



