টেকসিঁড়ি রিপোর্ট ঃ সাভার ক্যান্টনমেন্টের আর্মি আইবিএ’র শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী হিসাবরক্ষণ বিষয়ক একটি সেশনের আয়োজন করে বাংলাদেশের একাউন্টিং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ফিন্যান্সফাই।
হিসাবরক্ষণ ও ফাইন্যান্সে ক্যারিয়ার গড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। বাস্তব ব্যবসায় সেই জ্ঞান কীভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজে লাগে, সে বিষয়ে আগেভাগে ধারণা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।এই লক্ষ্যে ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ আর্মি আইবিএর বিজনেস ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ক্লাবের সহযোগিতায় ইনস্টিটিউটের কালচার ডে উপলক্ষে ‘ফিন্যান্সফাই প্রেজেন্টস রিয়েল ওয়ার্ল্ড একাউন্টিং : ফ্রম ক্লাসরুম টু ক্যাশবুক’ সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এআইবিএর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এআইবিএর সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফজাল হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষকরা। সেশনে একাউন্টিং ও ফ্যাইন্যান্স বিভাগের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ অতিথি আফজাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ তৈরি করছে, যা আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, “আমরা আনন্দিত যে বাংলাদেশে এমন প্রতিষ্ঠান ও রিসোর্স তৈরি হচ্ছে, যারা দেশের জন্য কাজ করছে এবং বাংলাদেশেই প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি করছে।”
সেশনে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখা হিসাবরক্ষণ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। একাডেমিক হিসাবরক্ষণ অনুশীলন এবং আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়।
শিক্ষাজীবন থেকে পেশাজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি, নতুন হিসাবরক্ষণ পেশাজীবীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং দৈনন্দিন আর্থিক কাজে সফটওয়্যারের ব্যবহার ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের দেখানো হয়, তাদের পরিচিত হিসাবরক্ষণ নীতিগুলো একটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে কীভাবে প্রয়োগ করা হয়।
ফিন্যান্সফাইয়ের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. তারতিবুর রশিদ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক সফটওয়্যার দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “এক্সেল আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ড পর্যন্ত নিয়ে যাবে, আর অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার জানা আপনাকে চাকরির চেয়ারে বসতে সাহায্য করবে।”
একই সঙ্গে বক্তারা বলেন, সফটওয়্যার শেখার আগে হিসাবরক্ষণের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করাটাও জরুরি।
ফিন্যান্সফাইয়ের কনসালট্যান্ট অমিত দেবনাথ বলেন, “বেসিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার ব্যবহারের আগে নিজের মৌলিক জ্ঞানকে আরও শক্ত করুন।”
সেশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা। অনুষ্ঠানে ফিন্যান্সফাই ঘোষণা করে, অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্স বিষয়ে মেজর করা শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক কাজে ফিন্যান্সফাইয়ের সকল ফিচার বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।
এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় থেকেই একটি কার্যকর অ্যাকাউন্টিং প্ল্যাটফর্মে অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহারের বদলে বিশ্ববিদ্যালয়েই তারা আর্থিক তথ্য কীভাবে রেকর্ড, পরিচালনা ও পর্যালোচনা করা হয়, তার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয়গুলো বাস্তব ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগও তৈরি হবে। প্রাসঙ্গিক অ্যাকাডেমিক অ্যাসাইনমেন্টেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যাবে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের মাধ্যমে অ্যাকসেস দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা হবে।
সেশন নিয়ে আর্মি আইবিএর বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরবীন আক্তার ঈশা বলেন, “একজন ব্যবসায় শিক্ষার্থী হিসেবে এই সেশনটি আমার জন্য খুবই শিক্ষণীয় ছিল। এখানে আমরা শুধু একটি সফটওয়্যার সম্পর্কে জানিনি, বরং ফাইন্যান্স, ব্যবসা ও প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, সেটিও বুঝতে পেরেছি। আমাদের একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব করপোরেট ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের একটি সংযোগ তৈরি করেছে এই সেশন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।”
সেশনটি পরিচালনা করেন ফিন্যান্সফাইয়ের কনসালট্যান্ট অমিত দেবনাথ, বিজনেস লিড আবুল খায়ের মোল্লা, হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. তারতিবুর রশিদ, হেড অব সাপোর্ট রাজু আহমেদ রাজ, এসকিউএ ইঞ্জিনিয়ার তানহা তাহিতী, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রতিনিধি শাহরিয়ার আহমেদ ও মো. তানজিলুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভিভাসফট লিমিটেডের ডিজিটাল মার্কেটিং সুপারভাইজার কাজী মোঃ আবিদ এবং সিনিয়র কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট রাশেদুল ইসলাম মজুমদার তানজিল।
আর্থিক প্রতিবেদন, লেনদেন ও ব্যবসায়িক হিসাব বোঝার ভিত্তি তৈরি হয় হিসাবরক্ষণ শিক্ষায়। তবে শিক্ষাজীবনে হাতে-কলমে এবং মাইক্রোসফট এক্সেলের মতো টুলের মাধ্যমে অনুশীলন করা হলেও কর্মক্ষেত্র এখন দ্রুত ডিজিটাল হয়ে উঠছে। দৈনন্দিন লেনদেন, বিক্রয়, ক্রয়, ব্যয়, ইনভেন্টরি ও আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে এখন নিয়মিতভাবে অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।



