সোহেল মৃধা: বাংলাদেশে প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চারটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে—বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান। একই সাথে আগে থেকে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে আসা কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও আনুষ্ঠানিকভাবে শর্তসাপেক্ষ ‘সম্মতিপত্র’ বা Letter of Intent (LoI) দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে এই সম্মতিপত্রই চূড়ান্ত লাইসেন্স নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত কারিগরি নিরাপত্তা, মূলধন ও অবকাঠামোগত শর্তসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার পর পরীক্ষামূলক পর্যায় অতিক্রম করে তবেই মিলবে চূড়ান্ত লাইসেন্স। ব্যাংকগুলোর শারীরিক কোনো শাখা না থাকায় পুরো লেনদেন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কীভাবে এর সুফল পাবেন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব কতটা গভীর হবে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিজিটাল বাণিজ্য বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for Digital Commerce Research and Advocacy (CDCRA) তাদের এক পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে, এটি কেবল ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়ন নয়, বরং বাংলাদেশে ডিজিটাল বাণিজ্যের গতিশীলতা বাড়াতে এবং প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূলধারার ব্যাংকিং পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রদীপ্ত মাইলফলক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি, নীতিমালা ও আইনি কাঠামো
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক হবে সম্পূর্ণ শাখাহীন (Branchless) একটি ব্যাংকিং মডেল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল নীতিগত উদ্দেশ্য হলো দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি করা, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নগদ টাকাকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রূপান্তর করা এবং দেশে একটি নিরাপদ নগদবিহীন (Cashless) লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা প্রথাগত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার মূলধনের চেয়ে আলাদা।
এছাড়া সাধারণ জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে লাইসেন্স পেয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ৫ বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে আইপিও (IPO) ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করতে হবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বে প্রতিটি ব্যাংককে ন্যূনতম ৬ মাসের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত ‘স্যান্ডবক্স’ (Sandbox) বা পরীক্ষামূলক পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। যেখানে পরিচালনা পর্ষদে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার চিত্র ও অনুমোদিত ৫টি উদ্যোগের ভিত্তি
২০২৫ সালের দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর জানা যায় মোট ১৩টি বড় কনসোর্টিয়াম বা আবেদনকারী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। সেখান থেকেই ৫টি উদ্যোগকে সবুজ সংকেত বা LoI দেওয়া হয়েছে—বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক।
বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক গড়ে উঠছে বিকাশের নিজস্ব বিস্তৃত এমএফএস ইকোসিস্টেম ও গ্রাহকভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে। বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছে রবি আজিয়াটা এবং মালয়েশিয়ায় তাদের ‘Boost Bank’-এর সফল আন্তর্জাতিক ফিনটেক অভিজ্ঞতা। ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং ভুটানের ডিকে ব্যাংকের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে গঠিত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান।
অন্যদিকে কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক দেশীয় স্বাধীন ফিনটেক উদ্যোগ হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে রয়েছে। প্রতিযোগিতায় থাকা অন্য আবেদনকারীদের মধ্যে ছিল—ব্রিটিশ বাংলা, অমর (২২টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার উদ্যোগ), ৩৬, অ্যাপ, মৈত্রী (আশা), মুনাফা ইসলামী, উপকারী ও জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক। এতে স্পষ্ট যে টেলিকম, এমএফএস, ক্ষুদ্রঋণ, শিল্পগোষ্ঠী এবং যৌথ উদ্যোক্তারা প্রত্যেকেই এই ডিজিটাল আর্থিক বাজারে অংশ নিতে দারুণ আগ্রহী।
প্রথাগত ব্যাংকিং সেবা ডিজিটাল ব্যাংকে কীভাবে মিলবে?
একজন সাধারণ মানুষ প্রথাগত ব্যাংকের শাখায় যেসব সেবা পান, সেগুলো ডিজিটাল ব্যাংকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় উপায়ে সম্পন্ন হবে। যেমন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কোনো কাগজের ফর্ম পূরণ বা সত্যায়িত ছবির প্রয়োজন নেই; জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোবাইল থেকেই ই-কেওয়াইসি (e-KYC) ও ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে কয়েক মিনিটে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
ডিজিটাল ব্যাংকের কোনো শাখা বা নিজস্ব এটিএম বুথ থাকবে না। লেনদেনের জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (NPSB) ব্যবহার করে অন্য যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ অথবা মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক এজেন্ট পয়েন্টগুলোকে ‘ক্যাশ-ইন’ ও ‘ক্যাশ-আউট’ কাউন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
একইভাবে, পেপারের কোনো প্রমাণপত্র ছাড়াই অ্যাপে এক ক্লিকে ডিপিএস বা মেয়াদি আমানত চালু করা যাবে এবং প্রতি মাসে অটো-ডেবিট প্রক্রিয়ায় টাকা জমা হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে ঋণের ক্ষেত্রে; প্রচলিত ব্যাংকে লোনের জন্য গ্যারান্টর বা সম্পত্তির দলিল লাগলেও ডিজিটাল ব্যাংক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবহার করবে। গ্রাহকের মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও এমএফএস লেনদেনের হিসাব বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ন্যানো লোন অনুমোদন করা হবে।
সাধারণ গ্রাহকের সুবিধা ও পরিচালনা ব্যয়
২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সার্ভিস মেলা, ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি না থাকা এবং কম সময়ে দ্রুত সেবা পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকবে। তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বাৎসরিক খরচ ও পেমেন্ট মাধ্যম। ফিজিক্যাল শাখা, বিশাল বিল্ডিং বা বিশাল জনবলের অফিস না থাকায় ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা ব্যয় (Operating Cost) প্রথাগত ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম হবে।
ফলে অনেক ব্যাংক বাৎসরিক অ্যাকাউন্ট মেনটেইনেন্স ফি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখতে পারে কিংবা খুব নামমাত্র চার্জ নির্ধারণ করতে পারে। তবে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারে নির্দিষ্ট চার্জ বা ফি প্রযোজ্য হলেও প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকগুলো নিজেরাও এতে আংশিক ভর্তুকি দিতে পারে। লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের আলাদা প্লাস্টিক কার্ড দেওয়ার বদলে অ্যাপেই মিলবে ভার্চ্যুয়াল ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, যা দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করা যাবে, আর অফলাইন বা দোকানে কেনাকাটার জন্য ‘বাংলা QR’ বা অ্যাপ পেমেন্ট ব্যবহৃত হবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপকারিতা ও বাস্তব দৃশ্যপট
ডিজিটাল ব্যাংক কেবল শহরের প্রযুক্তি-সচেতন জনগোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি গ্রামের ব্যাংক-সেবাবঞ্চিত মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। বিষয়টিকে বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দেখা যাক। ধরা যাক, পাবনার একজন ছোট সবজি বিক্রেতা রহিম মিয়া প্রথাগত কাগজপত্রের জটিলতায় এতদিন কোনো ব্যাংক লোন পাননি। বিকাশ বা বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে, রহিম মিয়া তার দোকানে ঝুলানো ‘বাংলা QR’ কোডের মাধ্যমে প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সরাসরি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে নেবেন। ব্যাংক তার এই নিয়মিত লেনদেনের ডিজিটাল হিসাব দেখে অ্যাপে সরাসরি তাকে ১০ হাজার টাকার ঋণের প্রস্তাব পাঠাবে। কোনো কাগজের জমা ছাড়াই তিনি এক ক্লিকে লোন পাবেন এবং প্রতিদিনের বিক্রি থেকে ছোট কিস্তিতে তা পরিশোধ করে দেবেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে থাকা কোটি প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ক্রেডিট স্কোরিংয়ের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এটিই আসল পরিবর্তন।
ম্যাক্রো-ইকোনমিক প্রভাব, ‘বিনিময়’ ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ
সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ডিজিটাল ব্যাংকগুলো দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে বেশ কিছু দিক থেকে বড় ভূমিকা রাখবে: মুদ্রাস্ফীতি ও মানি মাল্টিপ্লায়ার: ফিজিক্যাল ব্রাঞ্চের পরিচালন খরচ না থাকায় এই ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের তুলনামূলক ভালো মুনাফা বা সুদের হার দিতে পারবে। এতে তোশকের নিচে বা অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে জমা থাকা অলস নগদ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে চলে আসবে। এর ফলে বাজারে অর্থ সঞ্চালনের গতি (Money Velocity) ও মানি মাল্টিপ্লায়ার বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রা সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
‘বিনিময়’ ও ইন্টারঅপারেবিলিটি: ডিজিটাল ব্যাংকগুলো জাতীয় রিয়েল-টাইম পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘বিনিময়’ (Binimoy) এবং কেন্দ্রীয় ই-কেওয়াইসি ডাটাবেজের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এর ফলে যেকোনো এমএফএস অ্যাকাউন্ট, প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের মধ্যে তাৎক্ষণিক ও স্বল্প খরচে টাকা লেনদেন করা সহজ হবে।
খেলাপি ঋণ (NPL) নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশে প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বড় সংকট হলো ইচ্ছেকৃত খেলাপি ঋণ (Non-Performing Loans)। ডিজিটাল ব্যাংকে ম্যানুয়ালি লোন দেওয়া বা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। এখানে এআই অ্যালগরিদম দ্বারা গ্রাহকের মোবাইল বিল, ইউটিলিটি বিল ও কেনাকাটার ইতিহাস নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে ক্রেডিট স্কোরিং করা হবে। এর ফলে ভুয়া লোন, রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ দেওয়া বা ভুল তথ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ অনুমোদনের সুযোগ বন্ধ হয়ে খেলাপি ঋণের হার অনেক কমে আসবে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মডেলের অভিজ্ঞতা
ডিজিটাল ব্যাংক চালুর মাধ্যমে দেশের টাকা কাগজের নোটের বদলে ডিজিটাল রেকর্ডে পরিণত হবে। লেনদেনের সঠিক ট্রেইল তৈরি হলে সাধারণ মানুষ কেবল খরচ নয়, বরং ঋণ ও সঞ্চয়ের সুবিধার জন্যই ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে উৎসাহিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মডেল ইতিমধ্যে সাফল্য প্রমাণ করেছে। যেমন—ব্রাজিলের Nubank বর্তমানে ১৩৯ মিলিয়নেরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে এবং তারা দেশটির আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার KakaoBank তাদের জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের সাথে ব্যাংকিং যুক্ত করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাজ্যের Monzo প্রায় ১৬ মিলিয়নের বেশি গ্রাহককে জিরো-ফি পেমেন্ট সুবিধা দিচ্ছে এবং মালয়েশিয়ার Boost Bank তাদের বিদ্যমান টেলিকম ইকোসিস্টেম ব্যবহার করে ৮০ শতাংশ গ্রাহক যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সাইবার নিরাপত্তা
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা সফল করতে হলে কয়েকটি স্পর্শকাতর জায়গায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, হ্যাকিং, ওটিপি ফ্রড, ফিশিং বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিরোধে বিশ্বমানের শক্তিশালী আইটি অবকাঠামো প্রয়োজন। বিদেশি টেক-পার্টনার বা টেলিকম কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ মেনে গ্রাহকের স্পর্শকাতর আর্থিক ডাটা দেশের অভ্যন্তরে স্থানীয় সার্ভারে সংরক্ষণ (Data Localisation) করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত কোণে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা এবং আর্থিক জালিয়াতি সম্পর্কে সাধারণ ও প্রান্তিক গ্রাহকদের সচেতন করা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, বিকাশ, রবি, নোভা বা কড়ির মতো নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের আগমন কেবল প্রথাগত ব্যাংকের বিকল্প নয়। এটি টেলিকম, এমএফএস ও বাণিজ্যকে এক ছাতার নিচে আনার মাধ্যমে স্মার্ট অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করবে। সঠিক নীতিগত তদারকি ও সাইবার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা গেলে এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে এক অবিস্মরণীয় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
লেখক – উদ্যোক্তা এবং অনলাইন বিশ্লেষক


