টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : রাশিয়ায় ভিপিএন (VPN) সেবা বন্ধ করার প্রচেষ্টায় উল্টো দেশটির অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট সিস্টেমে বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শনিবার টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও ধনকুবের পাভেল দুরভ এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন। তিনি জানান, কয়েক কোটি রুশ নাগরিক এখন সরকারের এই ‘ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন।
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল রাশিয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবায় হঠাৎ বিপর্যয় দেখা দেয়, যার সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট করেনি ক্রেমলিন। এই বিভ্রাটের ফলে মস্কো মেট্রোর টার্নস্টাইলগুলোতে পেমেন্ট কাজ না করায় যাত্রীদের বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দিতে হয়। এমনকি একটি আঞ্চলিক চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের নগদ টাকা (ক্যাশ) ব্যবহার করতে অনুরোধ জানানো হয়।
নিজের প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় পাভেল দুরভ বলেন: “আমার রাশিয়ান ভাই ও বোনেরা, ডিজিটাল প্রতিরোধে আপনাদের স্বাগতম। এই অযৌক্তিক বিধিনিষেধগুলো বাইপাস করার জন্য এখন পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ।”
রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক ‘সবারব্যাংক’ (Sberbank) শুক্রবার একটি কারিগরি সমস্যার কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনীয় হামলা এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে ভিপিএন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং অ্যাপের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
রাশিয়া ইতোমধ্যেই টেলিগ্রামের গতি কমিয়ে দিয়েছে এবং পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত মেসেজিং অ্যাপ ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যবহারকারীদের জোরপূর্বক সরকারি অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করতেই এই ক্র্যাকডাউন চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টেলিগ্রামের ১০০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধেও উভয় পক্ষ এই অ্যাপটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।



