টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতির যুগে প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি সমস্যা সমাধান, সৃজনশীলতা ও মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন জরুরি। লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা লক্ষ্য। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল এই বিশাল যুবগোষ্ঠীকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬ সকালে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা এইসব কথা বলেন।
এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষতায় গড়ি সম্মিলিত ভবিষ্যৎ’ (Skills for a Shared Future)। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে এই দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ ও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ মডেল
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কর্মসংস্থান ও শিক্ষার বাইরে থাকা যুবকদের মূলধারায় ফেরাতে যুগোপযোগী কারিকুলাম ও নতুন শ্রমবাজার অন্বেষণ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন উন্নয়ন মডেল নিয়ে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত একটি ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা।
দখলযোগ্য নতুন বৈশ্বিক শ্রমবাজার ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: নুরুল হক, এমপি জানান, স্বল্প ব্যয়ে দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, কাতার সরকার বাংলাদেশের ৪টি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে তাদের শ্রমবাজারের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় বাজারে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, দুর্নীতি ও লালফিতার দৌরাত্ম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর উদ্যোগসহ কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এনএসডিএ-এর সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
সভাপতির বক্তব্যে এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এনএসডিএ-এর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাপানিজ, ইংরেজি, আরবি ও ইতালিয়ানসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কারিকুলাম তৈরির কাজ চলছে।
এনএসডিএ-এর নিবন্ধিত ৭৮৭টি প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী, জাতীয় দক্ষতা সনদ (এনএসসি) অর্জনকারীদের ৭৪ শতাংশ কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন এবং ৮.৩ শতাংশ বিশ্বের ৭২টি দেশে কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এছাড়া সনদধারীদের জন্য একটি ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর কাজ চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৫ জুলাইকে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এ বছর ১৫ জুলাই মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এনএসডিএ দিবসটির উদ্যাপন শুরু করে, যার ধারাবাহিকতায় এই র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বেসরকারি সংস্থা, শিল্পখাত, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।


