টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানদের ক্রমাগত জরিমানা করে চলেছে ইইউ। এই কারণে এবার ক্ষেপলেন ট্রাম্প। সেই ক্ষিপ্ত হওয়ার ভাব কিছুটা তিনি আবার প্রকাশ করলেন সামাজিক মাধ্যমেও।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প ইইউ’র পদক্ষেপকে অনৈতিক ও বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের জন্য কোনো ‘পিগি ব্যাংক’ বা জমানো টাকার পাত্র নয়, আর আমরা কখনোই তা হতে দেব না।” তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে আমেরিকা ও তার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর একের পর এক বড় ধরনের জরিমানার জবাবে ইইউ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি গুগলকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার (৮৯০ মিলিয়ন ইউরো) জরিমানা করার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কড়া হুঁশিয়ারি সামনে এলো।
ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তার প্রশাসন মার্কিন বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ এর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো বিদেশি দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জবাবে পাল্টা শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, শিগগিরই ইইউ-এর পণ্যের ওপর “উল্লেখযোগ্য শুল্ক” চাপানো হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর ইউরোপের দেওয়া জরিমানা বাতিল করতে বাধ্য করা হবে।
ট্রাম্পের এই নতুন হুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সম্পর্কে আবারো বড় ধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। গুগল এই ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বলছেন—তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং ডিজিটাল বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই তাদের আইন প্রয়োগ করছেন।
সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশন গুগলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ৮৯০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে। তাদের তদন্তে দেখা যায়, গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিনে তৃতীয় পক্ষের সেবার চেয়ে নিজেদের সেবাকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং অ্যাপ ডেভেলপারদের গুগল প্লে-স্টোরের বাইরে সস্তা বিকল্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে। এর আগে অ্যাপল, মেটা ও অ্যামাজনের ওপরও একই ধরনের ভারী জরিমানা আরোপ করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন।


