টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সাইবার সিকিউরিটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং অনলাইন বিজ্ঞাপন সুরক্ষা সংস্থা কনফিয়েন্ট একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ব্যবহারকারী কোনো কিছুতে ক্লিক না করা সত্ত্বেও কেবল টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের (Targeted Ads) মাধ্যমে স্মার্টফোনে স্পাইওয়্যার ইনস্টল করা সম্ভব—যাকে বলা হচ্ছে ‘Zero-Click’ Spyware attack।
সাইবার নিরাপত্তার জগতে এ এক নতুন ও আতঙ্কের অধ্যায় উন্মোচিত হলো। কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা বা কিছু ডাউনলোড করা ছাড়াই কেবল ফোনে ভেসে ওঠা বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে স্মার্টফোনে ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে অত্যন্ত বিপজ্জনক নজরদারি সফটওয়্যার বা ‘স্পাইওয়্যার’। প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষকরা এই আক্রমণের নাম দিয়েছেন ‘অ্যাডফেকশন’ ।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চ গ্রুপ সিটিজেন ল্যাব এবং অ্যাড-সিকিউরিটি ফার্ম কনফিয়েন্ট যৌথভাবে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
কীভাবে কাজ করছে এই আক্রমণ?
সাধারণত স্পাইওয়্যারের শিকার হতে কোনো ক্ষতিকারক ফাইল বা লিংকে ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে হয় (One-click)। কিন্তু এই ‘জিরো-ক্লিক’ (Zero-click) আক্রমণে ব্যবহারকারীকে কোনো কিছুই করতে হয় না।
১. বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার: আক্রমণকারীরা মূলত ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের নেটওয়ার্ক বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।
২. নির্দিষ্ট ডিভাইস টার্গেটিং: ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেক-এর ‘কন্ট্রোলিয়াম’ নামক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির আইপি অ্যাড্রেস, ডিভাইসের পরিচয় এবং অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন পাঠানো হতো।
৩. স্বয়ংক্রিয় ইনফেকশন: যখন ওই নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর ফোনে ওয়েবসাইট বা কোনো অ্যাপে বিজ্ঞাপনটি লোড বা রেন্ডার হতো, তখন ফোনটির ব্রাউজার বা অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তাত্রুটি কাজে লাগিয়ে নীরবে স্পাইওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে যেত।
নেপথ্যে কারা ?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে ইসরায়েলি নজরদারি প্রযুক্তি তৈরি সংস্থা ক্যান্ডিরু (Candiru) (যা বর্তমানে Integrity Labs নামে পরিচিত) এবং ডিসকভার-টেকের অবকাঠামো যুক্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু সাংবাদিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই জটিল সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ –
- গুগলের পদক্ষেপ: এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই টেক জায়ান্ট গুগল তাদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ‘ডিসকভার-টেক’-কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও সরিয়ে দিয়েছে।
- বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি “নাইটমেয়ার দৃশ্যপট” । কারণ সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিয়মিত বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্রাউজ করেন, আর সেসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই যদি অজান্তে ফোন হ্যাক হয়ে যায়, তবে প্রথাগতভাবে তা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।
সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ –
- মোবাইল ফোন ও অ্যাপগুলোর অপারেটিং সিস্টেম সবসময় সর্বশেষ সংস্করণে রাখা।
- ব্রাউজার এবং ডিভাইসে অপ্রয়োজনীয় ট্র্যাকিং ও অ্যাড-আইডি লিমিট করে রাখা।
- ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত অ্যাড-ব্লকার বা নির্দিষ্ট সাইবার সেফটি ফিচার চালু রাখা।


