এ এইচ এম বজলুর রহমান : প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে একটি দিনের উপস্থিতির পেছনে একজন তরুণ উদ্যোক্তার কয়েক মাসের শ্রম থাকতে পারে। পণ্যের প্রদর্শন ঠিকঠাক হতে হবে, স্টলটি আকর্ষণীয় হতে হবে। দর্শনার্থীর সঙ্গে অল্প সময়ের কথোপকথনও হয়তো নতুন ক্রেতা পাওয়ার সুযোগ এনে দেবে। কিন্তু প্রদর্শনী শেষ হলে অফিসভাড়া ও কর্মীদের বেতনের দায় শেষ হয় না। বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন উদ্দীপনার মূল্যায়ন করতে হবে এসব উদ্যোগের পরবর্তী পরিণতি দিয়ে।
৫ নভেম্বর ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট সম্ভাবনাগুলো সামনে এনেছে। এ জন্য আয়োজকদের সাধুবাদ প্রাপ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ আয়োজনে নীতিবিষয়ক আলোচনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগও ছিল। আয়োজকেরা ১৫০টি স্টলে পণ্য ও সেবা প্রদর্শন এবং ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন।
সম্মেলনের পটভূমিতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার স্বীকৃতি ছিল। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতি, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এগোয়নি। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে নীতিবিষয়ক আলোচনার সংযোগ ঘটানো ছিল ঘোষিত উদ্দেশ্য। ফলে আয়োজনের পরবর্তী কাজ মূল্যায়নের একটি মানদণ্ড আয়োজকেরাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
তবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়ে আমার আক্ষেপ, মেলা, সম্মেলন ও প্রচারের আড়ম্বরে বাস্তব সুফল ও জবাবদিহির প্রশ্ন অনেকটাই চাপা পড়েছিল। আশঙ্কা হয়, বাংলাদেশে এআই ব্যবসার সম্ভাবনাও যেন একইভাবে অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক হয়ে না পড়ে। তরুণ উদ্যোক্তারা পরিচিতি পেলেন, অথচ টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ পেলেন না, এমন পরিণতি আমরা চাই না।
এ সমালোচনা অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রশ্নে। কার্যকর ডিজিটাল সেবা কিংবা সরকারি কর্মী ও উদ্যোক্তাদের আন্তরিক পরিশ্রমের স্বীকৃতিও সেখানে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেখতে হবে, সরকারি ব্যয় কীভাবে মানুষের উপকারে আসছে। উপস্থিতির সংখ্যা ও ছবি থেকে বোঝা যায়, একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী চাহিদা, সেবার উন্নতি ও টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সেই আয়োজনের মূল্য সম্পর্কে অনেক বেশি জানায়।
প্রদর্শনীর সময় বাড়িয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন যুক্ত করলে দর্শনার্থী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। একটি স্থায়ী অনলাইন তথ্যভান্ডার সারা বছর সেই যোগাযোগ ধরে রাখতে পারে। সেখানে প্রতিটি পণ্যের পরিচিতিতে জানাতে হবে, এটি কোন সমস্যার সমাধান করে, দাম কত, কার্যকারিতার দাবির পক্ষে কী প্রমাণ আছে এবং সম্ভাব্য ক্রেতা কীভাবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যবহারোপযোগী পণ্য এবং এখনো পরীক্ষার পর্যায়ে থাকা প্রাথমিক সংস্করণের পার্থক্যও স্পষ্ট থাকা দরকার।
এর চেয়েও জরুরি হলো সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম ক্রেতা পেতে সহায়তা করা। মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার যৌথভাবে এমন একটি কর্মসূচি নিতে পারে, যেখানে অংশগ্রহণকারী সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো প্রকাশ করবে। কোনো কারখানা উৎপাদনে ত্রুটি কমাতে চাইতে পারে। কোনো ছোট পরিবেশক চাইতে পারেন মজুত ব্যবস্থাপনার উন্নতি। এগুলো সম্ভাব্য পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উদাহরণ। বাস্তবে পরীক্ষা করেই এগুলোর উপযোগিতা নির্ধারণ করতে হবে।
উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজের সুযোগ দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান পণ্য বা সেবাটি ব্যবহার করবে, মূল্যায়নের দায়িত্বও তাদের নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যোগ্যতার শর্ত এমন হতে হবে, যাতে সক্ষম নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করতে পারে। বাছাইয়ের মানদণ্ড, চুক্তি প্রদান ও মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করতে হবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা থাকতে হবে। পরীক্ষায় সফল হলে পরবর্তী ক্রয় সিদ্ধান্তের পথও স্পষ্ট থাকা চাই। বারবার বিনা পারিশ্রমিকে পণ্য দেখানো বাজার তৈরির বিকল্প হতে পারে না।
প্রতিটি পরীক্ষামূলক কাজ শুরুর আগে বিদ্যমান অবস্থার তথ্য রাখতে হবে। কাজটি করতে এখন কত সময় লাগে? ব্যয় কত? ভুল হয় কতবার? মূল্যায়নে সফটওয়্যারের মূল্য, কম্পিউটিং ব্যয়, প্রশিক্ষণ, তদারকি এবং ভুল সংশোধনের খরচও ধরতে হবে। দৈনন্দিন কাজে টিকে থাকে এমন ছোট উন্নতিও শুধু উপস্থাপনায় দেখানো বড় দাবির চেয়ে বেশি আস্থার যোগ্য।
লক্ষ্য হওয়া উচিত কাজের মান ও দক্ষতা বাড়ানো, যেখানে এআই ব্যবহারের যৌক্তিকতা আছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের আগে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ, সহজ কর্মপদ্ধতি কিংবা সাধারণ সফটওয়্যার। প্রস্তাবিত এআই পণ্য যথেষ্ট উপকার না করলে তা না কেনার স্বাধীনতা ক্রেতার থাকতে হবে। সরকারি সহায়তা পরীক্ষার ন্যায্য সুযোগ তৈরি করবে। পরবর্তী চুক্তি নির্ভর করবে প্রমাণ ও চাহিদার ওপর। উৎসাহের পাশাপাশি সৎ মূল্যায়নও উদ্যোক্তার কাজে আসে।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের প্রকল্প তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বাধীন মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। যৌথভাবে ব্যবহারের উপযোগী পরীক্ষাগার ও অবকাঠামো ছোট প্রতিষ্ঠানকে বাংলা ভাষায় পণ্যের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং সবার ব্যবহারোপযোগিতা যাচাইয়ে সহায়তা করতে পারে। কম্পিউটিং সুবিধা ও তথ্য ব্যবহারের সহায়তায় প্রকাশ্য যোগ্যতার মানদণ্ড এবং সাশ্রয়ী শর্ত থাকা প্রয়োজন। কোনো পণ্য উল্লেখযোগ্য দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তুলছে, নাকি মূলত বাইরের সেবাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করছে, তা ক্রেতাকে বুঝতে দিতে হবে। দাবি ও নিয়মিত ব্যয় স্পষ্ট থাকলে উভয় ধরনের উদ্যোগই কাজে আসতে পারে।
পরীক্ষামূলক প্রয়োগে কর্মীদের মতামতও থাকতে হবে। কোনো নিয়োগদাতা দক্ষতা বাড়ানোর দাবি করলে তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হবে, চাকরি ও দায়িত্বে কী পরিবর্তন আসবে, কর্মীরা কী প্রশিক্ষণ পাবেন এবং পরিবর্তনের ব্যয় কে বহন করবে। সরকারি কর্মসূচিতে ব্যবসার ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কাজের পরিবেশের প্রভাবও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নইলে আপাত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আড়ালে কর্মীদের ওপর বাড়তি ব্যয় ও দায় চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।
আস্থা তৈরির জন্য কার্যকরভাবে দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। চুক্তিতে স্পষ্ট থাকতে হবে, একটি ব্যবস্থা কোন তথ্য ব্যবহার করবে, কারা সেই তথ্য দেখতে পারবেন এবং কত দিন তা সংরক্ষণ করা হবে। ঋণ, চাকরি কিংবা সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগকে প্রভাবিত করে এমন এআই ব্যবস্থায় ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী স্বাধীন মূল্যায়ন থাকা দরকার। মানুষের কার্যকর পর্যালোচনা ও ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও চাই। একাধিক সরবরাহকারী ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও ভুলের জন্য কে দায়ী, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিদেশি ক্লাউড সেবার ওপর নির্ভরতা নিয়েও বাস্তবভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন। ক্রেতাকে নিরাপত্তা, নিয়মিত ফি ও তথ্য ব্যবহারের শর্ত যাচাই করতে হবে। তথ্য হারানো বা সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি ছাড়া অন্য সরবরাহকারীর কাছে যাওয়া যাবে কি না, তাও দেখতে হবে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং গ্রহণযোগ্য শর্তে চুক্তি করার সক্ষমতা বাংলাদেশকে বাড়াতে হবে। ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের দাবি সেই সক্ষমতা দিয়েই যাচাই করা উচিত।
এখানে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় জাতিসংঘের ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুশাসনবিষয়ক বৈশ্বিক সংলাপ’ থেকে। সাধারণ পরিষদের ৭৯/৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এ সংলাপের ভিত্তি গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট। এর প্রথম আয়োজন হয় ২০২৬ সালের ৬ ও ৭ জুলাই জেনেভায়। সরকারগুলোর সঙ্গে ব্যবসা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাঙ্গন ও কারিগরি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। অংশগ্রহণের এই বিস্তৃতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের সংলাপের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা চারটি গুচ্ছে সাজানো হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল এআইয়ের সুযোগ ও প্রভাব; সক্ষমতা, প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল ভিত্তির বৈষম্য কমানো; নিরাপদ ও আস্থাযোগ্য এআই; এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানুষের তদারকিসহ মানবাধিকার সুরক্ষা। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক এআই কার্যক্রম বৃহত্তর জনস্বার্থে ভূমিকা রাখছে কি না, তা মূল্যায়নে এসব বিষয় কার্যকর কাঠামো হতে পারে।
২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংলাপের যৌথ সভাপতিদের সারসংক্ষেপ বা Co-Chairs’ Summary এই যুক্তিকে আরও জোরালো করে। এতে চারটি বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়া গড়ে ওঠার প্রবণতা চিহ্নিত করা হয়েছে। উন্নয়নে এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ঝুঁকি বিবেচনা ও সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। অবকাঠামো, কম্পিউটিং সুবিধা, তথ্য, দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার বৈষম্য নির্ধারণ করছে কারা সুফল পাবে। এআইয়ের পরিকল্পনা থেকে ব্যবহার পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে মানবাধিকার, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো একক পক্ষের পক্ষে এআইয়ের সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণ জরুরি। এগুলো আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ সভাপতিদের পর্যবেক্ষণ; রাষ্ট্রগুলোর আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত কোনো সমঝোতা নয়।
বাংলাদেশের জন্য আমার বিবেচনায় এর তাৎপর্য হলো, বাণিজ্যিক এআই পণ্য ব্যবহারের সুযোগের পাশাপাশি এআই তৈরি, মূল্যায়ন ও পরিচালনার সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত কম্পিউটিং সুবিধা পেতে সহায়তা, বাংলা ভাষার নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং কেনার আগে পণ্য যাচাইয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষিত করা তার অংশ। শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি বা তাদের কাছে পৌঁছায় এমন পণ্যের পরীক্ষা ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা স্পষ্টভাবে বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই সংলাপের পর্যবেক্ষণ বাস্তব কাজে লাগানো সম্ভব।
পরবর্তী জাতীয় কার্যক্রমে ঢাকার বাইরের ছোট ব্যবসা, শ্রমজীবী মানুষ, নারী উদ্যোক্তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত করতে হবে। রাজধানীর প্রদর্শনীতে কম গুরুত্ব পায় এমন সমস্যা চিহ্নিত করতে কমিউনিটি গণমাধ্যম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি সহায়তা করতে পারে। কোন পরীক্ষামূলক কাজে অর্থ দেওয়া হবে এবং তার ফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেই সিদ্ধান্তেও তাঁদের অংশগ্রহণের প্রভাব থাকা প্রয়োজন।
২০২৭ সালের ৩ ও ৪ মে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতিসংঘ সংলাপে বাংলাদেশের উচিত এ কাজের প্রমাণ নিয়ে অংশ নেওয়া। মূল্যায়ন করা পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফল এবং কম্পিউটিং সুবিধা, দক্ষতা ও বাংলা ভাষার তথ্যসম্পদে সুনির্দিষ্ট চাহিদা তুলে ধরা যেতে পারে। এ সংলাপ সহযোগিতা ও অভিন্ন বোঝাপড়া তৈরির মঞ্চ।
এটি বাধ্যতামূলক চুক্তি তৈরির আলোচনা নয়। দেশে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে ধারাবাহিক কাজের ওপর। সম্মেলনের ৯০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বারের যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা উচিত। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, অর্থের উৎস এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রথম প্রকল্পগুলোর কাজ শুরুর সময় উল্লেখ থাকতে হবে। ছয় মাস পর প্রকাশ্য অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানাতে হবে, কাদের চুক্তি দেওয়া হয়েছে, অর্থ কত পরিশোধ করা হয়েছে, কী ফল পাওয়া গেছে এবং কোন প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয় হলে স্বাধীন পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চাই।
পডকাস্ট ও পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ আলোচনা সচল রাখতে পারে। পণ্য নির্মাতার সঙ্গে ক্রেতা ও স্বাধীন মূল্যায়নকারীকে কথোপকথনে যুক্ত করতে পারলে এসব উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অবদান হবে। উদ্যোক্তাদের নিজেদের কাজ ব্যাখ্যা করার, কঠিন প্রশ্ন শোনার এবং ফলাফলের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের সুযোগ প্রয়োজন।
যে তরুণেরা নিজেদের ধারণা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন, তাঁরা সেই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। আরেকটি সম্মেলন ঘোষণার আগে আয়োজকদের জানাতে হবে, কোন প্রতিষ্ঠান ক্রেতা পেয়েছে, কোন পণ্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের এখন এই জবাবদিহিই দাবি করা উচিত।
লেখক পরিচিতি – অ্যাম্বাসেডর ফর রেসপন্সিবল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) অ্যান্ড অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)



