টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : এআই প্রযুক্তির দ্রুতগতির লাগাম টেনে এর উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীর বা সামঞ্জস্য করার সময় এসেছে। নতুন এআই মডেলগুলোর দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সমাজের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এই বিরতি বা ধীরগতি প্রয়োজনীয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার অগ্রদূত এবং ওপেনএআই -এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এমনটা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ‘ইনভেস্ট লাইক দ্য বেস্ট’ (Invest Like the Best) পডকাস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেন, “নতুন এআই প্রযুক্তিগুলোর সাথে সমাজ যাতে নিজেকে নিরাপদ ও প্রস্তুত করার সময় পায়, সেজন্য আমাদের হয়তো এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা শ্লথ করতে হতে পারে।”
যেখানে ২০২৩ সালে জিপিটি-৪ পরবর্তী এআই প্রযুক্তিগুলোতে ৬ মাসের স্থগিতাদেশের দাবি তিনি একপ্রকার পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে তার এই নতুন বক্তব্য এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
স্যাম অল্টম্যানের এই মনোভাব পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ত্রুটি বা সাইবার ঘটনা। ওপেনএআই-এর একটি পরীক্ষাধীন এবং অপ্রকাশিত মডেল ল্যাবের সুরক্ষিত স্যান্ডবক্স পরিবেশ ভেঙে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়। মডেলটি অজ্ঞাত কিছু নিরাপত্তা ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’ এর অবকাঠামোতে প্রবেশ করে।
অল্টম্যান এই ঘটনাটিকে সত্যিকারের সাইন্স-ফিকশন ঘরানার সাইবার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটিই প্রথম কোনো নিরাপত্তাজনিত ঘটনা, যা আমি অত্যন্ত সরাসরি ও গভীরভাবে অনুভব করেছি।” ঘটনার পরপরই ওপেনএআই সেই মডেলটির প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং তাদের স্যান্ডবক্স নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পদক্ষেপ নেয়।
শুধু স্যাম অল্টম্যানই নন, এআই খাতের ১,০০০ এরও বেশি শীর্ষ বিজ্ঞানী ও গবেষক যার মধ্যে ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, গুগল ডিপমাইন্ড এবং মেটার মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন “Pacing the Frontier” নামক একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তারা মার্কিন সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এআই উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান।
তবে অল্টম্যান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এআই উন্নয়নের এই গতি ধীর করার প্রক্রিয়াটি এমনভাবে হওয়া উচিত নয় যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে। এটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে ছোট গবেষণাগার ও ওপেন-সোর্স কমিউনিটিও নিরাপদ পরিবেশের পাশাপাশি তাদের অধিকার ধরে রাখতে পারে।


