টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : গত মাসে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সংসদে একটি নতুন বিল বা খসড়া আইন প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে একই সাথে উত্তেজনা এবং ভয়ের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর পরিকল্পনা হলো দেশে এমন কিছু “মানুষ বিহীন কর্পোরেশন” বা কোম্পানি তৈরির আইনি স্বীকৃতি দেওয়া, যেগুলো সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত হবে।
তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, প্রেসিডেন্ট মিলেই এটিকে যতটা বিপ্লবী বা ‘মানুষবিহীন’ ভাবছেন, বাস্তবে আইনি ও প্রযুক্তিগত কারণে মানুষের সম্পৃক্ততা এড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর একটি উপসম্পাদকীয়তে প্রেসিডেন্ট মিলেই বর্ণনা করেন, এই বিশেষ ধরনের কোম্পানিতে কোনো মানব কর্মচারী থাকবে না। পরিবর্তে, এআই এজেন্ট বা রোবটরাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের “স্বাধীন বিচারবুদ্ধি” খাটয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবে।
বেশ কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এই আইন পাস হলে আর্জেন্টিনা হবে বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা এআই-চালিত কোম্পানির জন্য আলাদা একটি আইনি ক্যাটাগরি তৈরি করবে।
বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও উদ্বেগ: প্রেসিডেন্ট মিলেই-এর এই “আমরা ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত” ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিখ্যাত ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ও লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, এআই-এর হাতে যদি এত বেশি ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হয়, তবে কোনো অনিয়ম বা ক্ষতি হলে শেষ পর্যন্ত কাকে জবাবদিহি করতে হবে, সেই কর্পোরেট দায়বদ্ধতা (Accountability) পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
কর্পোরেট আইনজীবীদের মতে, প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পনা খাতা-কলমে যতটা বৈপ্লবিক মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা করা অসম্ভব। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
মানুষের নজরদারি (Human Oversight)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানের সাধারণ এআই বা চ্যাটবট দিয়ে বড় কোনো ব্যবসা বা সিদ্ধান্ত শতভাগ নিখুঁতভাবে চালানো সম্ভব নয়। যতক্ষণ না এআই মানুষের মতো সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (AGI – Artificial General Intelligence) অর্জন করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেকোনো বিশেষায়িত এআই কোম্পানি চালালেও তার পেছনে মানুষের তদারকি বা ‘হিউম্যান ওভারসাইট’ লাগবেই।
আইনি দায়বদ্ধতা কার?
একটি কোম্পানি আইনগতভাবে তখনই টিকে থাকে যখন তার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা সত্ত্বা থাকে যার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় বা যাকে চুক্তির জন্য দায়ী করা যায়। এআই যদি কোনো ভুল বা জালিয়াতি করে, তবে এআই-কে তো আর জেলে পাঠানো যাবে না।
আর্জেন্টিনা হয়তো বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এআই-চালিত কোম্পানি খোলার আইনি সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে, কিন্তু কর্পোরেট আইনজীবীদের মতে, শেষ পর্যন্ত সাইন করা, কর দেওয়া কিংবা আইনি জটিলতা সামলানোর জন্য কোনো না কোনো মানুষকে বোর্ডের পেছনে রাখতেই হবে।


