টেকসিঁড়ি রিপোর্ট ঃ ইউরোপের ১০টিরও বেশি দেশে সুপারশপের হিমায়ন ব্যবস্থায় (রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার) সাম্প্রতিক সাইবার হামলার ফলে মারাত্মক সরবরাহ সংকট ও কোটি কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের মতো দেশের শত শত সুপারমার্কেটের কুলিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টন কে টন পচনশীল খাদ্যসামগ্রী ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু সাধারণ ঘরের ফ্রিজের তুলনায় কেন সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থা সাইবার অপরাধীদের জন্য এত সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠল?
রয়টার্সের বিশ্লেষণে সুপারমার্কেটের আধুনিক ফ্রিজগুলো হ্যাকারদের এত সহজ লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো :
- রিমোট এক্সেস ও ক্লাউড সংযোগ (Remote Access): আধুনিক বাণিজ্যিক রেফ্রিজারেটরগুলো বাসাবাড়ির ফ্রিজের মতো সাধারণ নয়। খরচ কমাতে, জ্বালানি দক্ষতা বজায় রাখতে এবং দূর থেকে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ ও সফটওয়্যার আপডেটের জন্য এগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভার বা ক্লাউডে যুক্ত থাকে।
- সরাসরি ইন্টারনেট এক্সপোজার: অনেক সুপারমার্কেটে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সিকিউর নেটওয়ার্ক (যেমন: VPN) ব্যবহার না করেই সিস্টেমগুলো সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত রাখা হয়েছিল, যা হ্যাকারদের অবাধে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেয়।
- দুর্বল ও পুরানো পাসওয়ার্ড: অনেক ক্ষেত্রে ফ্রিজের কন্ট্রোল প্যানেলে কারখানার দেওয়া ডিফল্ট বা অত্যন্ত দুর্বল পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়নি।
- নিরাপত্তা প্যাচের অভাব: মূল খুচরা ব্যবসায়ে নজর দিতে গিয়ে সাইবার নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে নিয়মিত আপডেট ও প্যাচ বাউন্ড করা হয়নি, যা এই ধরনের ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।
আইরিশ সুপারভালু , ফ্রান্সের ক্যারেফুর এবং বেলজিয়ামের অন্যান্য সুপারমার্কেট চেইনগুলো এখন এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং তাদের কুলিং সিস্টেমগুলো সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত করতে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বেলজিয়ামের ব্রুজে অবস্থিত হাউয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এর অংশ সাইবার ৩ ল্যাবের একজন এথিক্যাল হ্যাকার ও গবেষক লরেন্স সিঙ্গিয়ার বলেছেন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত সিস্টেমগুলো, যেগুলো দূর থেকে অ্যাক্সেস করা যায়, সেগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রায়শই দুর্বল থাকে।
সুপারমার্কেটের ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন সার্ভার ও সিস্টেমের মতো সিস্টেমে পূর্ণ একটি ল্যাব থেকে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে দুর্বলতার মূল কারণ ছিল ডিভাইসগুলোকে পাবলিক ইন্টারনেটে যুক্ত করা। এগুলো সেখানে থাকাই উচিত নয়।”
তিনি বলেন, এই ধরনের সিস্টেমের একটি সাধারণ সমস্যা হলো, অপারেটররা প্রস্তুতকারকের সেট করা ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়, আবার অনেকে পরিচিত দুর্বলতাযুক্ত পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করে।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট সংযোগ যুক্ত যে কোনো ওটি (Operational Technology) সরঞ্জামই উপযুক্ত নিরাপত্তা না থাকলে গুরুতর ক্ষতির শিকার হতে পারে। ডাচ ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (NCSC) সহ অন্যান্য সংস্থাগুলো এখন সকল খুচরা বিক্রেতাদের নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আরো পড়ুন
ইউরোপের সুপারশপে ফ্রিজ হ্যাকিংয়ের নতুন ঢেউ: বিপুল খাদ্য নষ্ট


