টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে পরিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা প্রকাশ করার জন্য বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
একই সাথে তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি এআই ডেটা সেন্টার নবায়নযোগ্য শক্তির (রিনিউয়েবল এনার্জি) মাধ্যমে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ।
লন্ডন ক্লাইমেট অ্যাকশন উইক (লন্ডন জলবায়ু কর্ম সপ্তাহ) অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘ প্রধান ‘ইউএন এআই এনভায়রনমেন্টাল ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ’ বা জাতিসংঘের এআই পরিবেশগত স্বচ্ছতা উদ্যোগের সূচনা করেন।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে যে বিপুল জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদার সৃষ্টি করছে, তাতে পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে সে ব্যাপারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে স্বচ্ছ হতে হবে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেন যে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-এর ডেটা সেন্টারগুলো বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশ ছাড়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ গ্রাস করতে পারে।
এছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যবহারে যে পরিমাণ পানি অপচয় বা ব্যবহৃত হবে, তা দিয়ে সাব-সাহারা অঞ্চলের ১.৩ বিলিয়ন (১৩০ কোটি) মানুষের এক বছরের মৌলিক পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আমি প্রতিটি বড় এআই সংস্থাকে তাদের সিস্টেমের সম্পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব—কার্বন নিঃসরণ, পানি ও ভূমির ব্যবহার—পরিমাপ করতে এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আর কোনো লুকানো খরচ বা তথ্য গোপন রাখা চলবে না।
যদি এআই আমাদের একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে চায়, তবে বর্তমানে এর জন্য আমাদের কত মূল্য দিতে হচ্ছে সে বিষয়ে একে সৎ হতে হবে।”
জাতিসংঘ মহাসচিব অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান মুখে নেট-জিরো (কার্বন নিরপেক্ষ) লক্ষ্যমাত্রার কথা বললেও বাস্তব ক্ষেত্রে তারা নতুন নতুন অবকাঠামো চালাতে এখনো প্রাকৃতিক গ্যাস বা জীবাশ্ম জ্বালানি এবং পারমাণবিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন।
একই সাথে তিনি এই অনুষ্ঠানে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে মিথেন গ্যাস লিক বা লিকেজ মেরামত এবং গ্যাস ফ্লেয়ারিং বন্ধ করার আহ্বান জানান।


