টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : গত দশ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, গাড়ি ও জামাকাপড়ের মতো ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে একটি আইফোন ৭-এর প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৬৪৯ ডলার, সেখানে ২০২৫ সালের আইফোন ১৭-এর দাম শুরু হয়েছে ৭৯৯ ডলার থেকে। কিন্তু স্মার্টওয়াচের বাজারের দিকে তাকালে এক অবাক করা চিত্র দেখা যায়।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচের দামের তুলনা
২০১৬ সালে বাজারে আসা অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ২ (Apple Watch Series 2)-এর দাম শুরু হয়েছিল ৩৬৯ ডলার থেকে। অন্যদিকে, অ্যাপলের সাম্প্রতিকতম অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ (Apple Watch Series 12)-এর দাম শুরু হয়েছে ৩৯৯ ডলার থেকে। অর্থাৎ পুরো এক দশকে অ্যাপল তাদের স্মার্টওয়াচের দাম বাড়িয়েছে মাত্র ৩০ ডলার।
তবে অন্য বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির এই চিত্রটি ভিন্ন। ২০১৬ সালে স্যামসাংয়ের গিয়ার এস৩ ক্লাসিক এর দাম ছিল ৩৫০ ডলার, যেখানে তাদের সাম্প্রতিকতম গ্যালাক্সি ওয়াচ ৮ ক্লাসিক-এর দাম গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০ ডলারে।
স্পোর্টস ওয়াচ নির্মাতা গারমিন -এর ফোররানার ৭৩৫এক্সটি -এর দাম ২০১৬ সালে ছিল ৪৫০ ডলার, যার বর্তমান সমকক্ষ মডেল ফোররানার ৫৭০ -এর দাম পৌঁছেছে ৫৫০ ডলারে।
আবার কিকস্টার্টারে সাশ্রয়ী মূল্যে আসা পেবল ২ -এর দাম যেখানে ছিল ৯৯ ডলার (পরবর্তীতে বাজারমূল্য ১২৯ ডলার), সেখানে ২০২৬ সালে আসা পেবল রাউন্ড ২ -এর দাম রাখা হয়েছে ১৯৯ ডলার—যা প্রায় দ্বিগুণ।
বাড়তি দামে বাড়তি সুবিধা ও প্রযুক্তি
নূন্যতম বা কিছুটা বেশি দাম বাড়লেও স্মার্টওয়াচে কিন্তু ফিচারের কোনো কমতি ঘটেনি। ২০১৬ সালের অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ২ মূলত হার্ট রেট এবং ব্যায়াম ট্র্যাকিংয়ের মতো প্রাথমিক কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সিরিজ ১২-এ যুক্ত হয়েছে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ পরিমাপ, হার্টবিট ট্র্যাকিং, ইসিজি (ECG), উচ্চ রক্তচাপের নোটিফিকেশন, ঘুম পর্যবেক্ষণ, শরীরের তাপমাত্রা মাপা, পতন ও সড়ক দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ এবং ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা। পাশাপাশি এতে যুক্ত হয়েছে অত্যন্ত দ্রুতগতির প্রসেসর, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি।
একইভাবে গারমিনের ফোররানার ৫৭০ মডেলে যুক্ত হয়েছে উজ্জ্বল অ্যামোলেড ডিসপ্লে, অনবোর্ড মিউজিক, নিখুঁত লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের জন্য মাল্টি-ব্যান্ড জিপিএস এবং আধুনিক হেলথ ট্র্যাকিং ফিচার। মাত্র ৩০ ডলার বাড়তি মূল্যে অ্যাপল বিপুল পরিমাণ আপডেট আনলেও, গারমিন তাদের নতুন ফিচারের জন্য ১০০ ডলার বেশি রাখছে।
ভবিষ্যতে কি স্মার্টওয়াচের দাম আরও বাড়বে?
স্মার্টওয়াচের দাম আগামী দিনে আরও কিছুটা চড়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র প্রসারের কারণে চিপ নির্মাতারা তাদের উৎপাদনক্ষমতা ডাটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ তৈরিতে বেশি ব্যবহার করছে। ফলে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার এর হিসাব মতে, গুরুত্বপূর্ণ মেমরি উপাদানের দাম বিপুল পরিমাণে বাড়তে পারে। অন্যদিকে সিসিএস ইনসাইট পূর্বাভাস দিয়েছে যে মেমরি ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে ২০২৬ সালের মধ্যে স্মার্টওয়াচের গড় দাম প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে টেক জায়ান্টগুলো কতটুকু বাড়তি খরচ নিজেরা বহন করবে আর কতটুকু ক্রেতাদের ওপর চাপাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে স্মার্টওয়াচের চূড়ান্ত বাজারমূল্য।


